1. ashik@banglardorpon.com.bd : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  2. admin@banglardorpon.com.bd : belal :
  3. firoz@banglarsangbad.com.bd : Firoz Kobir : Firoz Kobir
  4. rubin@wfh.thewolf.club : lavonneportillo :
  5. lima@banglardorpon.com.bd : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. mijan@banglardorpon.com.bd : Mijanur Rahman : Mijanur Rahman
  7. lon@wfh.thewolf.club : roboshaughnessy :
  8. rona@wfh.thewolf.club : waldo43b400667 :
ইসলামে অতিথিপরায়ণতা ঈমানের আলামত
বাংলার দর্পন পরিবারে আপনাকে স্বাগতম...!!!

এখন সময় রাত ৩:৪৮ আজ শনিবার, ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে রজব, ১৪৪২ হিজরি




ইসলামে অতিথিপরায়ণতা ঈমানের আলামত

রিপোর্টার
  • সংবাদ সময় : রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে
ইসলামে অতিথিপরায়ণতা ঈমানের আলামত

অতিথির সমাদর ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য। সাধ্যানুযায়ী অতিথির আদর-আপ্যায়ন করা একজন মুসলিমের অন্যতম কর্তব্য। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কেউ আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান আনলে সে যেন কল্যাণকর কথা বলে নতুবা চুপ থাকে। কেউ আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান আনলে সে যেন প্রতিবেশীকে সম্মান করে। কেউ আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান আনলে সে যেন অতিথির সমাদর করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০১৮)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক লোক নবী (সা.)-এর খেদমতে এলো। তিনি (সা.) তাঁর স্ত্রীদের কাছে লোক পাঠালেন। তাঁরা জানালেন, আমাদের কাছে পানি ছাড়া কিছুই নেই। তখন রাসুল (সা.) বলেন, কে আছ যে এই ব্যক্তিকে মেহমান হিসেবে নিয়ে নিজের সঙ্গে খাওয়াতে পারো? তখন এক আনসারি সাহাবি [আবু তালহা (রা.)] বলেন, আমি। এই বলে তিনি মেহমানকে নিয়ে গেলেন এবং স্ত্রীকে বললেন, রাসুল (সা.)-এর মেহমানকে সম্মান করো। স্ত্রী বলেন, বাচ্চাদের খাবার ছাড়া আমাদের ঘরে অন্য কিছুই নেই। আনসারি বলেন, তুমি খাবার প্রস্তুত করো এবং বাতি জ্বালাও এবং বাচ্চারা খাবার চাইলে তাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও। সে বাতি জ্বালাল, বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়াল এবং সামান্য খাবার যা তৈরি ছিল তা উপস্থিত করল। বাতি ঠিক করার বাহানা করে স্ত্রী উঠে গিয়ে বাতিটি নিভিয়ে দিলেন। তারপর তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই অন্ধকারের মধ্যে আহার করার মতো শব্দ করতে লাগলেন এবং মেহমানকে বোঝাতে লাগলেন যে তাঁরাও সঙ্গে খাচ্ছেন। তাঁরা উভয়েই সারা রাত অভুক্ত অবস্থায় কাটালেন। ভোরে যখন তিনি রাসুল (সা.)-এর কাছে গেলেন, তখন তিনি (সা.) বললেন, আল্লাহ তোমাদের গত রাতের কাণ্ড দেখে হেসে দিয়েছেন অথবা বলেছেন খুশি হয়েছেন এবং এ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন—‘তারা অভাবগ্রস্ত সত্ত্বেও নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রগণ্য করে থাকে। আর যাদের অন্তরের কৃপণতা হতে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলতাপ্রাপ্ত।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৭৯৮)

উল্লিখিত হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, মেহমানের সমাদর করার দ্বারা কারো রিজিক কমে যায় না, মেহমানদারি করে কেউ সর্বহারা হয় না, বরং মেহমানদারি করে আল্লাহকে খুশি করা গেলে মহান আল্লাহই সফলতা দান করেন। সাহাবি আবু তালহা (রা.)-এর মেহমানদারিতে খুশি হয়ে মহান আল্লাহ যে আয়াতটি নাজিল করেছেন, এটা তার প্রমাণ। বুখারি শরিফে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসের একাংশে উল্লেখ আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমার ওপর তোমার মেহমানের হক আছে। (বুখারি, হাদিস : ৬১৩৪)

অতএব মেহমানের জন্য খরচ করা অনর্থক কাজ নয়, বরং মেহমানের সমাদর করার মাধ্যমে আমরা রাসুল (সা.)-এর অর্পিত দায়িত্ব পালন করি। অনেকের মনে হতে পারে, তাহলে কেউ যদি মাসের পর মাস মেহমান হয়ে আমার বাড়ি চলে আসে, তাহলে তো আমি তার কাছে জিম্মি হয়ে যাব। ব্যাপারটা আসলে সে রকম নয়, ইসলাম কারো ওপরই তার সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেয় না। মেহমানের হক একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাধ্যতামূলক থাকে, তা পার হয়ে গেলে তার সমাদর করলে সওয়াব মিলবে, কিন্তু কোনো কারণে মেহমানদারিতে ব্যর্থ হলে গুনাহ হবে না। আবু কারিম (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক রাত মেহমানদারি করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। যার আঙিনায় মেহমান নামে, এক দিন মেহমানদারি করা তার ওপর ঋণ পরিশোধের সমান। সে ইচ্ছা করলে তার ঋণ পরিশোধ করবে বা ত্যাগ করবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৭৫০)

মেহমানদারির একটি অন্যতম উপকারিতা হলো, যারা অতিথিপরায়ণ, মহান আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করেন না। তারা কঠিন বিপদ থেকে মহান আল্লাহর রহমতে নিষ্কৃতি পেয়ে যায়। সর্বপ্রথম ওহি অবতীর্ণ হওয়ার সময় রাসুল (সা.) শঙ্কিত হয়ে পড়লে খাদিজা (রা.) তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আল্লাহর কসম, কখনই নয়। আল্লাহ আপনাকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায় দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। (বুখারি, হাদিস : ৩)

উল্লিখিত হাদিসে খাদিজা (রা.) রাসুল (সা.)-কে যেসব গুণের কারণে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতপ্রাপ্ত হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, তার মধ্যে মেহমানদারি অন্যতম। আল্লাহ আমাদের সবাইকে অতিথিপরায়ণ হওয়ার তাওফিক দান করুন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ধরনের আরো খবর



প্রকৌশল সহযোগিতায়: মোঃ বেলাল হোসেন