1. ashik@banglardorpon.com.bd : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  2. admin@banglardorpon.com.bd : belal :
  3. firoz@banglarsangbad.com.bd : Firoz Kobir : Firoz Kobir
  4. rubin@wfh.thewolf.club : lavonneportillo :
  5. lima@banglardorpon.com.bd : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. mijan@banglardorpon.com.bd : Mijanur Rahman : Mijanur Rahman
  7. lon@wfh.thewolf.club : roboshaughnessy :
  8. rona@wfh.thewolf.club : waldo43b400667 :
গণমাধ্যম সুরক্ষায় নীতিমালার দাবি
বাংলার দর্পন পরিবারে আপনাকে স্বাগতম...!!!

এখন সময় সকাল ৭:৫২ আজ রবিবার, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি




গণমাধ্যম সুরক্ষায় নীতিমালার দাবি

রিপোর্টার
  • সংবাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে
গণমাধ্যম সুরক্ষায় নীতিমালার দাবি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্যমতে, গত জুন মাসে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১০ কোটি ছাড়িয়েছে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুক, গুগল এবং ইউটিউবের জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। সহজে পণ্যের প্রচার-প্রচারণায় কাঙ্ক্ষিত মাধ্যম হয়ে উঠছে এগুলো। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজার একচেটিয়া এসব প্রতিষ্ঠানের দখলে। ফলে আয় কমে গভীর সংকটে দেশীয় গণমাধ্যম। করোনার প্রাদুর্ভাবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন আরও কমেছে। এদিকে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
একাধিক বিজ্ঞাপনী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পণ্য ও সেবার বহুমাত্রিক প্রচার-প্রচারণায় ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের বাজার প্রায় দুই হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে দেশের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাণিজ্যের পুরোটাই প্রায় দখলে রেখেছে ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবের মতো বহুজাতিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে এসব প্রতিষ্ঠানের অফিস কিংবা জবাবদিহির জায়গা না থাকলেও সরকারের উদার নীতিমালাকে পুঁজি করে দেশ থেকে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা করছে এসব প্রতিষ্ঠান।
মূলত ব্যক্তিগত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং প্রতিষ্ঠিত বৃহৎ উদ্যোগ- এই তিন শ্রেণিতে রয়েছেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপনদাতারা। এর মধ্যে ব্যক্তিগত প্রচার-প্রচারণায় অনেকে এসব প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে অর্থ খরচ করে থাকেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও তাদের পণ্য ও সেবা সম্পর্কে কাঙ্ক্ষিত গ্রাহক খুঁজতে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের আশ্রয় নিচ্ছেন। অনেকে শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন। এছাড়া দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্রমেই ডিজিটাল বাণিজ্যে ঝুঁকে পড়ছে। ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উভয় পর্যায়ে বিজ্ঞাপন প্রচারে প্রথম পছন্দ ফেসবুক। এর পরেই রয়েছে গুগল ও ইউটিউব। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাটেও অর্থ খরচ করছেন ডিজিটাল বিজ্ঞাপনদাতারা।
জানা গেছে, দেশের ডিজিটাল মার্কেটিং বিজ্ঞাপনের ৬০ ভাগেরই বেশি দখলে থাকে ফেসবুকের। গুগল, ইউটিউবসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের দখলে বাকি অংশ। স্থানীয় গণমাধ্যমসহ কনটেন্ট ডেভেলপারদের ফেসবুক থেকে আয়ের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফেসবুকে আয়ের সুযোগ কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেসবুকে ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’, ‘ইন-স্ট্রিম অ্যাডস’ এবং ‘ইনস্ট্যান্ট আর্টিক্যাল’ শীর্ষক ফিচারের মাধ্যমে আয় করতে পারেন কনটেন্ট প্রকাশকরা। তবে ফেসবুক যা আয় করে তার কত শতাংশ শেয়ার করে এ প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে জানানো হয়, কনটেন্ট প্রকাশকদের প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে সহযোগিতা করছে ফেসবুক।
ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের কারণে ঠিক কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের গণমাধ্যম এমন এক প্রশ্নের জবাবে ডিজিটাল মার্কেট বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন সমকালকে বলেন, গুগল এবং ইউটিউব থেকে সাধারণত অ্যাডসেন্স ব্যবহার করে কনটেন্ট পাবলিশাররা আয় করতে পারেন। প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে মোট আয়ের ৫১ থেকে ৬৮ শতাংশ কনটেন্ট পাবলিশারদের দিয়ে থাকে গুগল। দেশ থেকে কেউ যদি ১০০ টাকার বিজ্ঞাপন ফেসবুকে দেয় সেই টাকার প্রায় পুরোটাই বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ফেসবুক নিয়ে নেয়। গুগল কিংবা ইউটিউবের ক্ষেত্রে এটি ভাগ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে দর্শক বা পাঠক দেশের পাশাপাশি বিদেশি ওয়েবসাইট বা কনটেন্টও ব্রাউজ করে থাকেন। ফলে এই টাকার বড় একটা অংশ বিদেশি কনটেন্ট প্রকাশকদের কাছে চলে যায়। এতে করে জটিল হিসাব-নিকাশ আর মারপ্যাঁচ শেষে ওই ১০০ টাকার ৫ টাকাও দেশে ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ক্রমেই ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজার বাড়লেও লাভ হচ্ছে না দেশীয় গণমাধ্যম ও কনটেন্ট পাবলিশারদের। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কী এমন প্রশ্নের জবাবে জাকারিয়া স্বপন বলেন, ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবের বিকল্প দেশীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের অন্তত ৬০ ভাগ সরাসরি দেশীয় গণমাধ্যমকে দিতে সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ব্যক্তিগত ও এসএমই পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের ছাড় দিয়ে শীর্ষ বিজ্ঞাপনদাতাদের সহজেই এ ধরনের শর্তের আওতায় আনা সম্ভব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের অন্যতম শীর্ষ গণমাধ্যমের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বিভাগের প্রধান সমকালকে জানান, দেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানির সংখ্যা একশ থেকে দেড়শটি। এই কোম্পানিগুলোই ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের মোট বাজারের অর্ধেক খরচ করে থাকে। এসব কোম্পানি যদি তার বাজেটের ৫০ ভাগ সরাসরি দেশীয় গণমাধ্যম ও প্ল্যাটফর্মে খরচ করে তবে চিত্রটি পাল্টে যেতে পারে।
প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন উদ্যোগে বিনিয়োগকারী সংগঠন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ভিসিপিইএবি) প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক বেসিস সভাপতি শামীম আহসান বলেন, ‘ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরিতে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের বাজারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফেসবুক, গুগল, ইউটিউবের বিকল্প মাধ্যম দেশে তৈরি হচ্ছে না, কারণ স্থানীয় উদ্যোগের সুরক্ষায় তেমন কোনো নীতিমালা কিংবা উদ্যোগ নেই। ফলে শত শত বিলিয়ন ডলারের এসব কোম্পানির সঙ্গে দেশীয় স্টার্টআপের টেক্কা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে স্থানীয় স্টার্টআপ এবং গণমাধ্যমের সুরক্ষায় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্তত ৫০ ভাগ বিজ্ঞাপন সংরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। ‘
তবে একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু মনে করেন, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন প্রদানের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিদেশি টেলিভিশনে যেমন বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তেমনি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে যেন দেশের ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রচার না হয় এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। দেশীয় গণমাধ্যমকে বাঁচাতে এখনই সরকারের উদ্যোগ নিতে হবে। গুগল, ফেসবুক, ইউটিউবের বিকল্প গণমাধ্যম তৈরি করতে হবে।’ চীনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, চীনে কিন্তু উইচ্যাট, বাইদু, টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমাদেরও চীনের পলিসি অনুসরণ করে স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৈরি করতে হবে এবং ওই সব মাধ্যমে চাইলে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে।’ তিনি বলেন, দেশে ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব বন্ধ করতে হবে এমনটি নয়; এসব মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রদানে নিষেধাজ্ঞা দিলেই স্থানীয় গণমাধ্যম শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় সামাজিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে।
এসব বিষয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, ‘বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিকে আমরা উৎসাহিত করি। ফলে দেশে আলিবাবা, উবারের মতো প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে। তবে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপকে আমরা সহযোগিতা দিচ্ছি। ফেসবুক, গুগলের বিকল্প কিছু নিয়ে কেউ এলে অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে।’

এদিকে ফেসবুক, গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকার অসহায় উল্লেখ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই জায়ান্ট শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই ভয়ংকর চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। ওরা দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে এটা যেমন সত্যি, তেমনি শুধু স্থানীয় স্টার্টআপ, গণমাধ্যমের জন্যই হুমকি এমন নয়; নিরাপত্তা ইস্যুতেও আমাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউবে গুজব প্রচারের সুযোগ দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাসহ দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারাও লক্ষণীয়। এসব বিষয় নিয়ে টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ধরনের আরো খবর



প্রকৌশল সহযোগিতায়: মোঃ বেলাল হোসেন