1. ashik@banglardorpon.com.bd : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  2. admin@banglardorpon.com.bd : belal :
  3. firoz@banglarsangbad.com.bd : Firoz Kobir : Firoz Kobir
  4. rubin@wfh.thewolf.club : lavonneportillo :
  5. lima@banglardorpon.com.bd : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. mijan@banglardorpon.com.bd : Mijanur Rahman : Mijanur Rahman
  7. lon@wfh.thewolf.club : roboshaughnessy :
  8. rona@wfh.thewolf.club : waldo43b400667 :
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দায়িত্ব কার?
বাংলার দর্পন পরিবারে আপনাকে স্বাগতম...!!!

এখন সময় রাত ৮:৫৭ আজ শনিবার, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি




বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দায়িত্ব কার?

রিপোর্টার
  • সংবাদ সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০
  • ৭২ বার দেখা হয়েছে
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দায়িত্ব কার?

নিজস্ব ডেস্ক: করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরে ক্রমে দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা ফুটে উঠছে। নানাবিধ সমস্যার মধ্যে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর অভিযোগ উঠছে অহরহ। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে সারাদেশে বেসরকারী হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা না দেয়ার অভিযোগ আসছে নিয়মিত।

সাধারণ সর্দি-কাশি বা জ্বর থাকলে রোগীদের কাছে যাচ্ছেন না চিকিৎসকরা। এতে কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অনেকসময় প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। সেই সংখ্যাও নেহাত কম নয়। অথচ এতো এতো অভিযোগ থাকার পরেও তাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়।

মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কাছে লিখিত ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না আসার কারণে তারা ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। শুধু বেসরকারি খাতে সারাদেশে হাসপাতাল ও ক্লিনিক আছে ১০ হাজারের বেশি। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে আরো ৬৯টি। দেশের একটি বড় অংশ বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবার ওপর নির্ভরশীল। এসব হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে নার্স আছে তো চিকিৎসক নেই। চিকিৎসক আছে তো অন্যান্য কর্মীরা নেই। বিভিন্ন সংকট লেগেই আছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য খেয়াল নেই হাসপাতাল মালিকদের।

উল্টো এই দু:সময়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের বেতন বোনাস দেয়া না নিয়ে চিকিৎসক ও মালিক পক্ষের মধ্যে তৈরী হয়েছে মনোমানিল্য। ফলে এই মহামারীর সময় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বেসরকারী হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতাগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকার কারণে রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার মতো পরিবেশ নেই। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে শতাধিক ডাক্তার নিয়মিত বসতেন, সেখানে হয়তো বসছেন দশ বারো জন। কথা হয় একজন ওষুধ কোম্পানীর কর্মীর সঙ্গে। যিনি ধানমন্ডি ও গ্রীণ রোডের বেশ কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে কোনো ধরনের চিকিৎসা হচ্ছে না আপাতত। চিকিৎসকও নেই আগের মতো। যার কারণে চাইলেও চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব না। তাই আমরা একটু অবসর সময় পার করছি। দেশের দু:সময়ে যখন হাসপাতাগুলো এই অবস্থা, ঠিক তখনি প্রশ্ন উঠছে বেসরকারী হাসপাতালগুলো তদারকি নিয়ে।

স্থ্যমন্ত্রনালয়ের সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ নিয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে বসেন। সেখানে তাদেরকে বার বার অনুরোধ করা হয় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের অনুরোধে সংশ্লিষ্টরা চিকিৎসা সেবার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে ফল শূণ্য। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন আগে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিশেষ একটি তদারকি সেল গঠন করা হয়। এতে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে প্রধান করে ৫টি টিম গঠন করা হয়। টিমগুলো একটি সেল হিসেবে কাজ করার কথা। টিমের সদস্যরা রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঙ্গে অভিযান চালানোর কথা থাকলেও বাস্তবে কিছুই দেখা যায়নি।

তবে জানা গেছে, ভোক্তা আইনে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কোনো বিধান নেই। কাজেই অভিযানের সময় অনিয়ম পেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার কথা। এতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করবে। সঙ্গে রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু এই সেল গঠন করার পর তাদের তেমন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। সেল গঠনে সীমাবদ্ধ ছিলো সংস্থাটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমরা রাজধানীর সাতটি নামকড়া হসপিটাল পর্যবেক্ষণ করেছি, সেখানকার পরিস্থিতি তুলে এনেছিলাম। সেটা করেছিলাম স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের নোটিশে। কিন্তু এখনতো মন্ত্রণালয় নিজেরাই নির্দেশনা দিয়েছে। এরপর থেকে আমরা আর তদারকি বা পর্যবেক্ষণ করছি না।

এদিকে গত ১১ই মে বেসরকারী হাসপাতালগুলোকে একটি নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেখানে বলা হয়, জরুরি চিকিৎসা সুবিধা থাকলে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর এখন আর কোনো রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে ফেরত পাঠানোর সুযোগ নেই। এর পাশাপাশি কোনো রোগীকে অন্য হাসপাতালে রেফার করার প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোগীর চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই রেফার করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমন নির্দেশনা জারির পর কথা হয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মালিক সমিতির সভাপতি এম এ মুবিন খানের সঙ্গে। তিনি এই প্রতিবেদকে বলেন, আমি নির্দেশনাটি দেখেছি। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে দেয়া কোনো সমাধান নয়। তবে আমার কাছেও কয়েকটি অভিযোগ এসেছে বড় বড় কয়েকটি হাসপাতালে গিয়ে রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। যেটা একেবারই দু:খজনক। কিন্তু এটাও মানতে হবে, এসব হাসপাতালে অনেক রোগী করোনা উপসর্গ গোপন করে ভর্তি হয়েছে, পরে করোনা পজেটিভ এসেছে। ফলে চিকিৎসক নার্সসহ অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন। আমি যেটা বলতে চাই হাসপাতালগুলো দেশের দু:সময়ের জন্যই। এসময় সবাই সবার পাশে থাকা উচিৎ। তবে আমি বলতে পারি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর কোনটির ব্যাপারেই আমার কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি । আসলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নিবো।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেকটি নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে কোনো মুমূর্ষু করোনায় (কোভিড-১৯) রোগে আক্রান্ত সন্দেহ এবং কোনো কারণে যদি তাকে উক্ত হাসপাতালে ভর্তি করানো সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত রোগীকে অপেক্ষমাণ রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষের চারটি ফোন নাম্বারে ফোন দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছিলো। সেখানে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে রোগীর ভর্তি বা চিকিৎসা বিষয়ে করণীয় সমন্বয় করা হবে।

অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপও তেমন কাজে আসেনি। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে এমন কয়েক দফা নির্দেশনা আসলেও কর্ণপাত করেনি বেসরকারী হাসপাতালগুলো। ফলে সাধারণ রোগীরাই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বেশী। শুধু সাধারণ রোগীই নয় চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হওয়া থেকে বাদ যাননি সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারাও।

তদারকির বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মিডিয়া সেলের ফোকাল পয়েন্ট মো. হাবিবুর রহমান খান এই প্রতিবেদককে বলেন, বেসরকারী হাসপাতাগুলোর বিরুদ্ধে চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। যার কারনে দুই তিনদিন আগে একটা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি সেই নির্দেশনা না মানা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা এই প্রশ্নে তিনি বলেন, এই খারাপ সময়ের মধ্যে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের মনে কষ্ট দিতে চাই না। তবে এরকম চলতে থাকলে তো আর ছাড় দেয়া যাবে না। আমরা এখন থেকে ব্যবস্থা নিবো।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল সম্পর্কিত বিভাগের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। যেটাকে লিখিত অভিযোগ বলে। এ ধরনের যদি কোনো অভিযোগ পাই তাহলে হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উরো অভিযোগ পেলে তো আর ব্যবস্থা নেয়া যায় না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ধরনের আরো খবর



প্রকৌশল সহযোগিতায়: মোঃ বেলাল হোসেন